News

Biman News

চলতি মৌসুমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম হজ্জ-ফ্লাইট বিজি-১০১১ আগামী ২৪ জুলাই রোজ সোমবার সকাল ০৭:৫৫ মিনিটে ৪১৯ জন হজ্জ-যাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব রাশেদ খান মেনন, এমপি ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, এমপি এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজ্জ-যাত্রীদের বিদায় জানাবেন। একই দিনে হজ্জ-ফ্লাইট বিজি-৩০১১ সকাল ১:৫৫ মিনিটে ৪১৯ জন, বিজি-৭০১১ বিকাল ১৯:৫৫ টায় ৪১৯ জন এবং শেড্যুল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত ০৮:৪০ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে। নির্ধারিত সময়ে, নির্বিঘেœ হজ্জ-ফ্লাইট পরিচালনার সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও এ বছর যথারীতি প্রয়োজনীয় সংখ্যক হজ্জ-ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। আগামী ২২ জুলাই ২০১৭ রোজ রবিবার সকাল ১০:০০ ঘটিকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশকোনাস্থ হজ্জ-ক্যাম্পে হজ্জ কার্যক্রম-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। 
এ বছর হজ্জ-ফ্লাইট ও শেড্যুল ফ্লাইটে মোট ৬৩,৫৯৯ (ব্যালটি ও নন-ব্যালটি) জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ্জ পালনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এ জেদ্দা যাবেন। এসব হজ্জ-যাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পারাপারের জন্য বিমান ইতিমধ্যেই নিজস্ব সুপরিসর বোয়িং ট্রিপল সেভন উড়োজাহাজ প্রস্তুত রেখেছে। এছাড়া ৪০৬ আসনের লীজে’র বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজে হজ্জ-যাত্রীদের পারাপার করবে।  ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমানের নিয়মিত সিডিউল ফ্লাইটেও কিছু হজ্জ-যাত্রী পবিত্র ভূমিতে যাবেন। পবিত্র হজ্জের গুরুত্ব ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি সর্বাঙ্গ-সুন্দর হজ্জ কার্যক্রম পরিচালনায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।এ বছর বুকিং নিশ্চিত করে সিডিউল ঠিক রাখারা জন্য বিমান অর্ধেক ভাড়া অগ্রিম নেবে।
বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ১২৭,১৯৮ জন হজ্জ-যাত্রী পবিত্র হজ্জব্রত পালনে সৌদি আরব যাবেন। এ বছর বিমানে যাবেন মোট ৬৩,৫৯৯ জন হজ্জ-যাত্রী, এর মধ্যে সরকারী ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৪০৯০ অবশিষ্ট ৫৯,৫০৯ জন যাবেন বেসরকারী ব্যবস্থাপনায়। এ বছর ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে হজ্জ-যাত্রীদের ইকনোমি ক্লাসে বিমান ভাড়া ১৪৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সাথে যোগ হবে দেয় অন্যান্য কর। ঢাকা থেকে জেদ্দা প্রতি ফ্লাইটের উড্ডয়নকাল হবে আনুমানিক ৭ ঘন্টা।  
দুই মাস ব্যাপী হজ্জ-ফ্লাইট পরিচালনায় শেড্যুল ফ্লাইটসহ মোট ৩৪৬ টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যার মধ্যে ২৮৩ ‘ডেডিকেটেড’ এবং ৬৩টি শেড্যুল ফ্লাইট। ২৪ জুলাই থেকে ২৬ আগষ্ট পর্যন্ত ‘প্রি-হজ্জ’-এ মোট ১৭৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে  (ডেডিকেটেড-১৪৪ এবং শেড্যুল-৩৩)। পোস্ট-হজ্জে ১৬৯টি ফ্লাইট চলবে ০৬ সেপ্টেম্বর থেকে ০৫ অক্টোবর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড-১৩৯ এবং শেড্যুল-৩০)। ৪০৯০ জন সরকারী ব্যবস্থাপনার যাত্রীসহ মোট ৬৩,৫৯৯ জন হজ্জ-যাত্রী হজ্জ পালনের জন্য ক্যারিয়ার হিসেবে বিমানকে ব্যবহার করবেন। হজ্জ-ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা উভয় স্থানেই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করেছে। 
প্রত্যেক হজ্জ-যাত্রী (অফঁষঃ ধহফ ঈযরষফ) বিনামূল্যে সর্বাধিক ২(দুই) পিস ৪৬ (ছেচল্লিশ) কেজি মালামাল বিমানে ও বিজনেস ক্লাসের জন্য সর্বাধিক ২ (দুই) পিস ৫৬ (ছাপান্ন) কেজি এবং কেবিন ব্যাগেজে ০৭ (সাত) কেজি মালামাল সংগে নিতে পারবেন। কোন অবস্থাতেই প্রতি প্রিস ব্যাগেজ এর ওজন ২৩ (তেইশ) কেজি এবং বিজনেস ক্লাস এ ২৮ কেজি এর বেশি হতে পারবে না। প্রত্যেক হজ্জযাত্রীর জন্য ০৫(পাঁচ) লিটার জমজমের পানি ঢাকায় নিয়ে আসা হবে এবং হাজী সাহেবানরা ঢাকা ফেরৎ আসার পর তাঁদেরকে তা প্রদান করা হবে। হাজী সাহেবানরা সাথে করে বিমানে পানি বহন করতে পারবেন না। 
যে কোন ধারালো বস্তু যেমন ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, ধাতব নির্মিত দাঁত খিলন, কান পরিস্কারক, তাবিজ ও গ্যাস জাতীয় বস্তু যেমন এ্যারোসল এবং ১০০ (এম এল)-এর বেশী তরল পদার্থ হ্যান্ড ব্যাগেজে বহন করা যাবে না এবং কোন প্রকার খাদ্য সামগ্রী সংগে নেওয়া যাবে না।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী হাজী সাহেবানদের কষ্ট লাগব করার উদ্দেশ্যে ফিরতি ফ্লাইটের (জেদ্দা থেকে বাংলাদেশ) ব্যাগেজ জেদ্দা এয়ারপোর্ট এ চেক্-ইন এর সময় বিমানে গ্রহণ করা হবে না। পরিবর্তে এই ব্যাগেজ পূর্বেই মক্কা ও মদিনায় বিমান নির্ধারিত স্থানে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে যা বিমানের ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট হাজী সাহেবানদের বহনকারী ফ্লাইটেই পরিবহন করা হবে।   
বিমান কর্তৃক পরিচালিত ডেডিকেটেড হজ্জ-ফ্লাইটসমুহের চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা প্রতিবারের ন্যায় এবারও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন হজ্জ ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হবে। তবে শেড্যুল ফ্লাইটের হজ্জ-যাত্রীদের যাত্রাপূর্ব আনুষ্ঠানিকতা যথানিয়মে বিমানবন্দরে সম্পন্ন করা হবে। ঢাকা থেকে যাত্রা পূর্বে সম্মানিত হজ্জযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইটের বোর্ডিং কার্ড দিয়ে দেওয়া হবে যা পাসপোর্টের সাথে সযতেœ সংরক্ষণ করতে হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সাউদিয়া হজ্জ-যাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা রুটে আনা-নেওয়া করবে। ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ৯ লক্ষ ৩২ হাজার ৭৭৭ জন হাজী হজ্জ-পালনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর সেবা গ্রহণ করেছেন। ২০১৭ সালের হজ্জ-কার্যক্রম সফল করে তুলতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রিয় দেশবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে।