News

Biman News

                       

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বৈমানিক ক্যাপ্টেন সৈয়দ মাহবুব হেলালকে বিশ্ব বৈমানিকদের জন্য সর্বোচ্চ খেতাব ‘আজীবন সম্মাননা’ দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব এয়ারলাইন্স পাইলটস ্এসোসিয়েশন (ইফাআলপা)। গত ৬ই মে ২০১৭  ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব এয়ারলাইন্স পাইলটস এসোসিয়েশন (ইফাআলপা)’র সদর দপ্তর মন্ট্রিল, কানাডাতে চলমান বিশ্ব বৈমানিকদের ৭২তম বার্ষিক সম্মেলনের একটি আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।  আইকাও ও ফেডারেল এ্যাভিয়েশন এ্যাডমিনিষ্ট্রেশন (এফএএ) কর্মকর্তাসহ ৫৫০ জনপ্রতিনিধির উপস্থিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বৈমানিক ক্যাপ্টেন সৈয়দ মাহবুব হেলালকে বিশ্ব বৈমানিকদের জন্য সর্বোচ্চ খেতাব‘আজীবন সম্মাননা’প্রদান করা হয়।
এই সম্মাননাটি প্রতি ৫ বছর অন্তর অন্তর বিশ্ব বৈমানিক সমাজের মধ্য থেকে জুরি বোর্ডেও যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে মাত্র একজন বৈমানিককে প্রদান করা হয়।
এই প্রথমবারের মত এ্যাভিয়েশন ইতিহাসে এশিয়া মহাদেশের কোন বৈমানিক এই সম্মাননা প্রাপ্ত হলেন,যা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তথা বাংলাদেশের জন্য একটি পরম প্রাপ্তি। বৈমানিকদের পেশাগত উন্নয়নের অবদানের জন্য ক্যাপ্টেন হেলালকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
ক্যাপ্টেন হেলাল ১৯৮৪ সালে বৈমানিক হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যোগদান করেন। তিনি পর পর তিনবার বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলটস্ এসোসিয়েশন (বাপা)’র নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সহ, চারবার সভাপতি নির্বাচিত হন। পেশাগত জীবনে তিনি সকল প্রতিকুলতাকে অতিক্রম করে বাংলাদেশী বৈমানিকদের পেশাগত উন্নতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
২০০৮ সালে সম্পাদিত বিমানের নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ ক্রয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেন। এর পাশাপাশি তিনি বাপা’র বৈমানিকদের বিমানের নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের নীতিমালা প্রণোয়ন এবং তা বাস্তবায়নে কাজে নিয়োজিত করেন। এ সম্মাননা  গ্রহণকালে ক্যাপ্টেন হেলাল তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের সিভিল এ্যাভিয়েশন খাতের উন্নতিতে সর্বাত্বক সহযোগীতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর পরিচালনা বোর্ড, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সহ সকল স্তরের কর্মকর্ত াএবং কর্মচারীদের তিনি ধন্যবাদ জানান। তাঁর এই প্রাপ্তিকে তিনি বাংলাদেশের বৈমানিক সমাজকে উৎসর্গ করেন।
ক্যাপ্টেন হেলাল ২০১৪ সালে কমান্ডার ডিসি-১০ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে অবসর জীবনে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত আছেন।