News

Biman News

 অদ্য ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রোজ বুধবার বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে বিমানের নতুন উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার আকাশবীণাকে নিয়ে ভূল তথ্য সম্বলিত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা বিমান কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। প্রকাশিত কিছু সংবাদে বলা হয়েছে ‘ভেংগে পড়েছে আকাশবীণার দরজা’। আকাশবীণার দরজা ভাংগার বিষয়টি সত্য নয়, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমন কি প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিটিও আকাশবীণার নয়। প্রকৃতপক্ষে আকাশবীণার কোন দরজা ভাংগেনি। বিমানটির কোন দরজার কোন ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

প্রকৃতপক্ষে জরুরী নির্গমণ দরজার সংগে সংশ্লিষ্ট একটি র‌্যাফট খুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জরুরী অবস্থায় যাত্রীদের বিমান থেকে বের হওয়ার জন্য এই র‌্যাফট দরজার সংগে সংযুক্ত থাকে। এটার মাধ্যমে যাত্রীরা দ্রুত উড়োজাহাজ থেকে বের হতে পারেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার ভোর ৪:২৫ মিনিটে মালয়েশিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরে ড্রিমলাইনার আকাশবীণা। যাত্রী নেমে যাওয়ার পর নিয়মিত গ্রাউন্ড চেক এর অংশ হিসেবে বিমানের প্রকৌশল বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয় বিমানটি। পরবর্তী ফ্লাইটের যাত্রীদের খাবার বিমানে ওঠানোর জন্য দরজা খোলার সময় র‌্যাফট খুলে যায়। এ প্রেক্ষিতে প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা আইকাও, সিভিল এভিয়েশন এবং উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করেন এবং ঐ দিন সকালে ঢাকা থেকে সিংগাপুরে ড্রিমলাইনারের নির্ধারিত ফ্লাইট ১৮ মিনিট দেরীতে ৮:৪৩ মিনিটে ঢাকা ছাড়ে। উড়োজাহাজটি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে এবং অদ্য সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। র‌্যাফট  খুলে যাওয়ার বিষয়ে কারো কোন দায়িত্বে অবহেলা আছে কি না সে বিষয়ে একটি তদন্তে কমিটি গঠিত হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তার ফ্লাইট পরিচালনায় যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ড্রিমলাইনার পরিচালনার জন্য বিমানের নিজস্ব ১৪ জন বৈমানিক ও ১১২ জন প্রকৌশলীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রসংগত উল্লেখ্য, বর্তমানে বোয়িং অনুমোদিত ০২ জন বিদেশী বৈমানিক ও ০৬ জন বিদেশী প্রকৌশলী ড্রিমলাইনার পরিচালনার বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন সংস্থা আইকাও, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (সিএএবি) এবং উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এর নিয়ম-নীতি প্রতিপালন করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিমানের উড়োজাহাজ ড্রিমলাইনার সম্পর্কে ভূল তথ্য সম্বলিত সংবাদটি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে এবং একই সংগে জাতীয় পতাকাবাহী রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্সের ভাবমূর্তি ক্ষুণ করেছে। এ প্রেক্ষিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমসমূহকে ভূল তথ্য সম্বলিত সংবাদ সংশোধন এবং এদ্তসংক্রান্ত প্রতিবাদ যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশের জন্য অনুরোধ করছে এবং একই সাথে বিমান সম্পর্কিত কোন সংবাদ প্রকাশের আগে প্রয়োজনে জনসংযোগ বিভাগের সাথে যোগাযোগের অনুরোধ করা যাচ্ছে।

মোবাইল -০১৭৭৭৭১৫৫১১

ইমেইল- gmpr@bdbiman.com;